13/04/2026
বাঞ্ছারামপুরে বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু; স্বামী পলাতক, শালিসের পরপরই আত্মহত্যার অভিযোগ...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের হায়দরনগর গ্রামে মর্জিনা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর বিষপানে (কেরির বড়ি) মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা নেওয়ার পথে ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে স্বামী হুমায়ূন কবির পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও মৃত্যু:
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে কেরির বড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মর্জিনাকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
নেপথ্যে নির্যাতন ও একাধিক বিয়ের অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী হুমায়ূন কবিরের একাধিক বিয়ে ও পারিবারিক কলহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মর্জিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে মর্জিনাকে মাথায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এছাড়া বিয়ের আগেও নির্যাতনের অভিযোগে মর্জিনার বাবা হুমায়ূনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বলে জানা যায়।
শালিস বৈঠক ও চূড়ান্ত পরিণতি:
ঘটনার দিন দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের উপস্থিতিতে একটি শালিস বৈঠক চলছিল। সেখানে দেড় বছরের সন্তানসহ মর্জিনাকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এই অপমান ও অনিশ্চয়তা সইতে না পেরে শালিসের পরপরই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মর্জিনা।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, শালিস শেষে ফেরার পথে পুলিশ জানতে পারে মর্জিনা বিষপান করেছেন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। নিহতের বাবা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
নারী অধিকার ও সমাজ সচেতনতা
ডেস্ক (১২ এপ্রিল ২০২৬):
পারিবারিক কলহ নিরসনে শালিসী ব্যবস্থা কি সবসময় ভুক্তভোগীর পক্ষে যায়? একটি অবুঝ শিশু ও একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতির জন্য দায়ী কারা? আপনার সুচিন্তিত মতামত আমাদের জানান।