03/10/2026
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক হোটেলে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, মিলছে না সিসিটিভি ফুটেজ
ব্রাাহ্মণবাড়িযা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড তাজ হোটেল আবাসিকের ৫০৬ নম্বর কক্ষে মেরাজ নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে ও মুখে কস্টেপ লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতনের শিকার মেরাজের মা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, হোটেল মালিক পৈরতলা এলাকার সুমন, সদর উপজেলার সুহিলপুরের ফয়সাল, হেলাল ও শহরের কাউতলী এলাকার বাবু।
অভিযোগে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মেরাজ ফলের দোকানের মালামাল আনার টাকা নিয়ে মালিকের কাছে যাওয়ার জন্য বের হয়। এ সময় কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠ থেকে তাকে কৌশলে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই দুইজন অবস্থান করছিলেন। পরে তিনজন মিলে তাকে মারধর ও নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে ও মুখে কস্টেপ লাগিয়ে রেখে চলে যায়। হোটেলের রিসেপশন কাউন্টারের পাশেই ছিল ওই ৫০৬ নম্বর কক্ষ। পরে হোটেল মালিক ও ১ নম্বর অভিযুক্ত সুমন কক্ষে গিয়ে মেরাজকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান।
পরিবারের অভিযোগ, সুমন নিজের মোবাইল ফোনে মেরাজের ওই অবস্থার ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে মেরাজকে আবার হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে দৌড়ে কাজীপাড়া এলাকায় চলে যায় এবং সেখানে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে আবার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পুলিশও হাসপাতালে গিয়ে মেরাজের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য সুমন কাজীপাড়ায় এসে অর্থের প্রস্তাব দেন। সুমনের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ও হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে তিনি হোটেলে গিয়ে দিতে হবে বলে জানান। কিন্তু পরে হোটেলে গিয়ে ফুটেজ আনতে গেলে তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি হোটেলের এক স্টাফও মেরাজকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থাকার বিষয়টি স্বীকারও করেছে। এরপরও সুমনের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ও হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশও ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা করেও তা আনতে পারেনি বলে অভিযোগ।
একটি সূত্রের দাবি, গ্র্যান্ড তাজ হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য, মাদক সেবনকারীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিয়ে কক্ষ দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হোটেল মালিক সুমন নিজেও মাদক সেবন করেন-এমন অভিযোগও করেছে সূত্রটি।
এদিকে, ঘটনার পর হোটেল মালিক সুমনও থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তবে মেরাজকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের ভিডিও, হোটেলের রিসেপশনের পাশের কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ, হোটেল স্টাফের বক্তব্য এবং সুমনের সঙ্গে কথোপকথনের কল রেকর্ড থাকার দাবি ওঠার পরও ঘটনার সঙ্গে অভিযোগে নাম থাকা হোটেল মালিক সুমনকে এখনো আটক না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ৫০৬ নম্বর কক্ষ ও রিসেপশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত জব্দ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব আলামত তদন্তে যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুরো ঘটনা জানতে সম্পুর্ন ভিডিও টা দেখতে হবে।
Brahmanbaria News24
০৩/১০/২৬ ইং