17/05/2026
কেমন বাজেট চাই | Channel i | Round table |
রাউন্ড টেবিল -
👉 https://youtu.be/5fA5kI04X8A?si=vA9J8Kvn9TFw6nT3
আসন্ন বাজেট ২০২৬-২৭: একজন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও নীতি বিশ্লেষক হিসাবে আমার ভাবনা-
আসন্ন জাতীয় বাজেট (২০২৬-২৭) হবে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
একজন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও নীতি বিশ্লেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট নিয়ে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা নিচে তুলে ধরা হলো—
১. উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাত উন্নয়ন(উদ্যোক্তার ভাবনা)
🟩 সহায়ক কর কাঠামো
দেশে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে কর্পোরেট করহার আরও যৌক্তিক করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে স্টার্ট-আপ ও এসএমই (SME) খাতের জন্য প্রাথমিক কয়েক বছর কর অবকাশ (Tax Holiday) সুবিধা চালু বা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ শক্তিশালী হবে।
🟩 সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন
বর্তমান উচ্চ সুদের হার ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ব্যাংক ঋণের সুদের হার স্থিতিশীল রাখা এবং জামানতবিহীন স্টার্ট-আপ ফান্ড ও উদ্ভাবনী তহবিল সহজলভ্য করা জরুরি। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা অর্থায়ন নীতিমালা প্রয়োজন।
🟩 কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানো
ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচ কমাতে এনবিআর (NBR)-এর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন জোরদার করতে হবে। এতে দুর্নীতি কমবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।
২. সামাজিক সুরক্ষা ও বৈষম্য হ্রাস(সমাজকর্মীর ভাবনা)
🟩 সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাজেট বৃদ্ধি এবং ভাতা মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে নিম্নআয়ের মানুষ বাস্তব সহায়তা পায়।
🟩 স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অধিক বরাদ্দ
টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জিডিপির তুলনায় এ দুই খাতে বরাদ্দ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।
🟩 অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট ব্যবস্থা
অটিজম, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য পৃথক থোক বরাদ্দ রাখা উচিত। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ প্রণোদনা থাকা প্রয়োজন।
৩. সামষ্টিক অর্থনীতি ও নীতি সংস্কার(নীতি বিশ্লেষকের ভাবনা)
🟩 কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। করের আওতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং ডিজিটাল মনিটরিং জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। তবে নতুন কর আরোপের আগে বিদ্যমান কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করা প্রয়োজন।
🟩 মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, কৃষি ও স্থানীয় উৎপাদনে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিং জোরদারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
🟩 উন্নয়ন বাজেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উন্নয়ন বাজেট (ADP)-এর ব্যয়ে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় অবকাঠামো নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
🟩 উপসংহার
আসন্ন বাজেট শুধু রাজস্ব আহরণের দলিল হওয়া উচিত নয়; এটি হতে হবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপরেখা।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করাই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও সফলতা।